আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ৭৭তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাইওয়ানের সঙ্গে ‘পুনরেকত্রীকরণ’-এর লক্ষ্য অর্জনে আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) চীনের জাতীয় দিবসের প্রাক্কালে দেওয়া এক ভাষণে তিনি তাইওয়ান ইস্যুতে সব ধরনের ‘বাইরের হস্তক্ষেপ’ স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেন।
স্বশাসিত ও গণতান্ত্রিক তাইওয়ানকে দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে আসছে বেইজিং। প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথও তারা খোলা রেখেছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক আলোচনায় তাইওয়ানের স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানে অনড় থাকতে ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন শি জিনপিং। এরপরই জাতীয় দিবসের প্রাক্কালে তাইওয়ানের সঙ্গে পুনরেকত্রীকরণ ইস্যুতে বেইজিংয়ের কঠোর অবস্থানের কথা পুনরায় ব্যক্ত করলেন তিনি।
শি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই তাইওয়ান প্রণালির দুই পাড়ের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও গভীর করতে হবে, ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’র পক্ষে বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে, বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করতে হবে, দুই পাড়ের সম্পর্কের শান্তিপূর্ণ উন্নয়ন এগিয়ে নিতে হবে এবং জাতীয় পুনরেকত্রীকরণের মহান লক্ষ্য এগিয়ে নিতে হবে।’
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে শত শত অতিথির সামনে শি এ ভাষণ দেন।
১৯৪৯ সালের ১ অক্টোবর দুই দশক ধরে চলা গৃহযুদ্ধের শেষে কমিউনিস্ট বাহিনী জাতীয়তাবাদী কুওমিনতাং বাহিনীকে পরাজিত করার পর গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠিত হয়। পরাজিত জাতীয়তাবাদীরা তাইওয়ানে পালিয়ে যায়।
নিজেদের নিরাপত্তার জন্য তাইওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কেনাও রয়েছে।
গত সপ্তাহে শি রাষ্ট্রীয় সফরে ওয়াশিংটন যান। সেখানে তিনি ট্রাম্পকে তাইওয়ান ইস্যুতে ‘বিচক্ষণতা’ প্রদর্শনের আহ্বান জানান এবং দ্বীপটির স্বাধীনতার বিরোধিতা করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান।
এর আগে মে মাসে তাইওয়ানের জন্য ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র কেনার একটি চুক্তি স্থগিত রেখেছিল ওয়াশিংটন। ট্রাম্প চীনের সঙ্গে আলোচনায় এটিকে ‘খুব ভালো দর-কষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। এতে তাইওয়ানের নিরাপত্তা চীনের সঙ্গে আলোচনায় সমঝোতার বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়।
শি তার ভাষণে আরও বলেন, চীন ‘জটিল আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ‘উন্নয়নের নতুন কাঠামো গড়ে তোলার কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া’ প্রয়োজন।
সিনহুয়ার প্রতিবেদনে শিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘আমাদের অবশ্যই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে অবিচল থাকতে হবে… পরিবর্তন ও অস্থিরতায় জটিল হয়ে ওঠা বিশ্বে আরও বেশি নিশ্চয়তা ও ইতিবাচক শক্তি সঞ্চার করতে হবে।’