স্পোর্টস ডেস্ক: এজবাস্টনে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে মুখোমুখি হচ্ছে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ড। কিন্তু পুরোনো বিতর্ক এখনও পিছু ছাড়ছে না বাবর আজমের দলকে। এই ম্যাচের আগে অবিশ্বাস্যভাবে পাকিস্তানের স্কোয়াডে ৭টি পরিবর্তন এবং দুই কোচকে ছাঁটাই করে পিসিবি। অধিনায়ক হওয়া সত্ত্বেও সেই খবর গণমাধ্যমে জেনেছেন বাবর, এর ব্যাখ্যাও পিসিবি দিতে পারবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
তৃতীয় টেস্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সময় কয়েক দফায় কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যদিও দলে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে কথা বলার সময় নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন বাবর। পাশাপাশি দলে ডাক পাওয়া নতুন খেলোয়াড়দের জন্য এটিকে তিনি একটি সোনালি সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া পিসিবির সম্প্রতি ‘শৃঙ্খলা ও আচরণ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন’ পর্যালোচনার পর তদন্ত শুরুর ঘোষণা নিয়েও নতুন তথ্য নেই বলে জানান বাবর।
স্কোয়াডে হুট করেই সাত ক্রিকেটার পরিবর্তনের প্রশ্নে বাবর জানিয়েছেন, ‘এটা আমার কাছেও খবর হিসেবে এসেছে। পরে জানতে পেরেছি। পিসিবি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই কেন তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা তারা আরও ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবে। পিসিবি নিশ্চয়ই কোনো চিন্তাভাবনা করেই সিদ্ধান্তটি নিয়েছে। কেন এমন করেছে, সেটা তাদের জিজ্ঞেস করাই ভালো।’
সিরিজ হাতছাড়া হওয়ায় এখন আর হারানোর কিছু নেই বলে দাবি পাকিস্তান অধিনায়কের, ‘সিরিজ হেরে গেছি, আমাদের আর হারানোর আর কিছু নেই। আমাদের স্বাধীনভাবে খেলতে হবে এবং দল হিসেবে নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। আমরা কয়েক দিন অনুশীলন করেছি এবং দলে আসা নতুনদের বিষয়গুলো বুঝিয়ে বলেছি। যে তরুণ খেলোয়াড়ই দলে আসে, সে উচ্ছ্বসিত থাকে এবং সেই উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, ম্যাচেও সেটা দেখা যাবে।’
লর্ডসে ১৯৪ রানের পরাজয়ের পর পাকিস্তানের হাই-পারফরম্যান্স পরিচালক আকিব জাভেদ সিরিজে দলের নির্বাচন নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তবে প্রথম দুই টেস্টে দলের সিদ্ধান্তের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন বাবর। তিনি বলেন, ‘দল হিসেবে তিন বিভাগেই আমরা ভালো খেলিনি। আর যখন ফল পাওয়া যায় না, তখন বাইরে থেকে প্রচুর সমালোচনা আসবে। কিন্তু ওই সময় আমরা যেটাকে সেরা মনে করেছি, সেটাই করেছি।’
‘পিচ ও কন্ডিশন আমরা যেভাবে পড়েছিলাম, সে অনুযায়ী যে একাদশ নিয়ে খেলেছি, সেটাকেই তখন আমরা সেরা মনে করেছিলাম। কিন্তু আমরা যে ফল বা পারফরম্যান্স নিজেদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করি, সেটা পাইনি’, আরও যোগ করেন বাবর। ইনজুরির কারণে প্রথম টেস্টে খেলেননি ডানহাতি এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। এরপর লর্ডস টেস্টে ফিরেও ৮ ও ৬ রানের বেশি করতে পারেননি। ফলে ব্যর্থতার ভার নিজের কাঁধেও নিলেন বাবর।
তিনি বলেন, ‘আপনি যখন কোনো সিরিজ বা টুর্নামেন্টে নামেন, তখন ভালো করার ব্যাপারে নিজের ওপর আস্থা রাখতে হয়। একজন সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে আপনাকে আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হবে এবং কঠিন কন্ডিশনে পারফর্ম করতে হবে। আমরা ক্রিকেটই খেলি এ কারণে যে, কঠিন পরিস্থিতিতে আমাদের পারফর্ম করতে হবে এবং আধিপত্য দেখাতে হবে। অতীতের ব্যর্থতাগুলো ভুলে গিয়ে ভবিষ্যতের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।’