ওয়েব ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট সুযোগ তৈরি হলে তা প্রত্যাখান করা হবে চরম ‘দায়িত্বে অবহেলা’—হাউস অব কমন্সে আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে দেওয়া এক বিবৃতিতে এমনটিই জানাতে যাচ্ছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।
ব্রেক্সিট-পরবর্তী রাজনীতি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী এমপিদের সামনে বলবেন, এখন সময় এসেছে এই সত্যটি মেনে নেওয়ার যে ‘ব্রেক্সিট সুবিধার চেয়ে যুক্তরাজ্যের বেশি ক্ষতি করেছে’। দেশটির বর্তমান স্থবির পরিস্থিতি ব্রিটেনের সার্বিক উন্নয়নের জন্য মোটেও উপযোগী নয় বলেও তিনি মন্তব্য করবেন।
১. নতুন চুক্তিতে অবৈধ অভিবাসন দমন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বার্তা
গত মাসে অনুষ্ঠিত লেবার পার্টির সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম প্রথম ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তিনি চলতি বছর পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাজ্য-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে ইউরোপীয় ব্লকের সঙ্গে নতুন ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার সম্ভাবনা যাচাই করবেন।
হাউস অব কমন্সে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলবেন, ব্রাসেলসের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করা সম্ভব হলে তা দেশে অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে এবং ঝিমিয়ে পড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে সহায়ক হবে। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, সরকার যদি এমন একটি লাভজনক চুক্তি নিশ্চিত করতে পারে, তবে দেশের অধিকাংশ জনগণও সেটিকে ইতিবাচকভাবেই গ্রহণ করবে।
১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের এক কর্মকর্তা বলেন: “অ্যান্ডি বার্নহ্যাম অনুধাবন করেন কেন কিছু রাজনীতিবিদ এই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে চান না যে ব্রেক্সিট তার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। তবে আমাদের দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক নিয়ে একটি ভিন্ন ও গঠনমূলক আলোচনা শুরু করা জরুরি। প্রবৃদ্ধি বাড়ায় এমন সুযোগ হাতছাড়া করা আর স্থবিরতার মাঝে পড়ে থাকা হবে মারাত্মক দায়িত্বহীনতা।”
২. ইউআইইউ শীর্ষ সম্মেলন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর গ্রীষ্মকালে নির্ধারিত যুক্তরাজ্য-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনটি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আগামী মাসে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী এটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যামের প্রাথমিক লক্ষ্য—লন্ডন ও ব্রাসেলসের মধ্যকার বর্তমান বাণিজ্য ও নীতিগত ব্যবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এবং ইউরোপীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে একটি শক্তিশালী দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা। বার্নহ্যাম আগেই উল্লেখ করেছেন যে, ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার পর ইউরোপীয় সহযোগীদের সঙ্গে গোয়েন্দা ও সীমান্ত অংশীদারিত্ব নষ্ট হওয়ায় অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছিল, যা পুনর্গঠনে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
৩. বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ ও নতুন গণভোটের গুঞ্জন
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ রাজনীতিতে ইতোমধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কনজারভেটিভ পার্টির নেত্রী কেমি ব্যাডেনক সরকারের এই প্রচেষ্টাকে ‘একটি ভয়ংকর ভুল পদক্ষেপ’ বলে বর্ণনা করেছেন।
কেমি ব্যাডেনকের যুক্তি: ব্রেক্সিট বিতর্ক নতুন করে চালু করা মানে অর্থনীতিকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দেওয়া। এর ফলে ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগ করতে ভয় পাবে এবং দেশ আবারও রাজনৈতিক গোলকধাঁধায় আটকে যাবে।
গণভোটের ইঙ্গিত: অন্যদিকে, বিবিসি-কে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম স্বীকার করেছিলেন যে, ভবিষ্যতের লেবার ম্যানিফেস্টোতে ইইউ-তে নতুন শর্তে অবস্থান বা সম্পর্কের ওপর নতুন গণভোটের (In-Out Referendum) প্রতিশ্রুতি থাকা ‘সম্ভব’।
১৫ সেপ্টেম্বরের পর দলীয় সম্মেলনগুলোর কারণে স্থগিত থাকা ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অধিবেশন সোমবার আবার শুরু হচ্ছে। একই দিনে প্রধানমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে হাউস অব কমন্সে ব্যাপক উত্তেজনার পূর্বাভাস মিলছে।