ওয়েব ডেস্ক: অকার্যকর ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতির ইতি টেনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরির বার্তা, জ্বালানি খাতের তীব্র হট্টগোল এবং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন।
অধিবেশনের প্রথম দিনেই অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, মক্কা প্যাক্ট ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদ অর্জন নিয়ে সরকারের সুদৃঢ় কূটনৈতিক কৌশলের কথা তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে মেগা প্রকল্পের গতিধারা ও ব্যয় পুনর্মূল্যায়ন নিয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ তথ্য তুলে ধরলে, তার জবাবে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, মূল্যস্ফীতি ও জনদুর্ভোগ নিয়ে ট্রেজারি বেঞ্চকে ‘তাসের ঘর’র মতো আক্রমণ করেন বিরোধী ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন, নেপালের ভয়াবহ বন্যায় শোক ও সহায়তা বার্তা পাঠানো, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, বৈদেশিক সম্পর্ক, পুলিশ বাহিনীর সংস্কার, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য এবং নিত্যপণ্যের দাম ও জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
ছাত্র-জনতার বিজয়ের স্মৃতিবাহী আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণকে স্মরণ করে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন। অধিবেশনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মউৎসর্গকারী সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। একই সঙ্গে ১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ ৩৫ বছর বিরতিতে ২০২৬ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়াকে দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে আখ্যায়িত করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে। শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে একটি গণতান্ত্রিক, শক্তিশালী ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মহান জাতীয় সংসদ ও ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। স্পিকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন, নতুন রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মর্যাদা ও পারস্পরিক সহযোগিতা সুদৃঢ় হবে এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে। সংসদকে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সর্বোচ্চ কেন্দ্র উল্লেখ করে তিনি দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
এরপর কার্যপ্রণালী বিধির ১২(১) বিধি অনুযায়ী স্পিকার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের জন্য ৫ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর নাম ক্রমানুসারে ঘোষণা করেন। মনোনীত সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা হলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ঢাকা-৩), জামাল নিজাম (চট্টগ্রাম-১৩), মুহাম্মদ নওশাদ জমির (পঞ্চগড়-১), নিলুফার চৌধুরী মনি (মহিলা আসন-১০) এবং মুজিবুর রহমান (রাজশাহী-১)। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে তালিকায় থাকা নামের ক্রমানুসারে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা অধিবেশন পরিচালনা করবেন।
সংসদে স্পিকার কর্তৃক উত্থাপিত শোক প্রস্তাবে গত ১২ জুলাই প্রয়াত সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও মন্ত্রী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সতীশ চন্দ্র রায়, মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ জাহান চৌধুরী, সাবেক চিফ হুইপ ও প্রতিমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন মিয়াসহ মোট ১২ জন সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শোক জানানো হয়। পাশাপাশি একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী, চিত্রশিল্পী মোস্তফা মনোয়ার, রাজনৈতিক চিন্তাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং শিক্ষাবিদ ড. মকবুল হোসেনের প্রয়াণে শোক প্রকাশ করা হয়।
শোক প্রস্তাবে বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমানের আহ্বানে যশোরের ঝিকরগাছা থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য আবু সাদেক মোহাম্মদ আবু সাঈদ এবং গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থেকে নির্বাচিত মাওলানা আব্দুল আজিজের নাম যুক্ত করা হয়। পয়েন্ট অব অর্ডারে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণির অনুরোধে নাটোরের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমানের নামও শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
একই সময়ে চিফ হুইপের আহ্বানে বন্ধুপ্রতিম দেশ নেপালের সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় মহান সংসদের পক্ষ থেকে শোক ও সমবেদনা প্রস্তাব গৃহীত হয়। চিফ হুইপ জানান, বন্ধুপ্রতিম দেশ নেপালের এই দুর্যোগে সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় উদ্ধার কাজ ও মেডিকেল টিম প্রেরণের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। সংসদে উত্থাপিত শোক প্রস্তাবসমূহ সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় এবং নেপালের দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশসহ সব প্রয়াত ব্যক্তিবর্গের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন শেষে দোয়া পরিচালনা করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ।
শোক ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আবহ পার হতেই জাতীয় সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কার্যপ্রণালী বিধি লঙ্ঘন, হট্টগোল ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগে। সংসদীয় অধিবেশন চলাকালে সংসদ সদস্যদের তীব্র হট্টগোল ও একে অপরকে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদের ভেতরে সদস্যদের অসহিষ্ণুতা এবং স্পিকারের নির্দেশ তোয়াক্কা না করার এই ধারা বজায় থাকলে সংসদের ভবিষ্যৎ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার বাকবিতণ্ডার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের উদ্দেশ্যে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথম থেকেই বিরোধীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে অসংসদীয় মনোভাব প্রদর্শন করে আসছেন এবং সংসদকে নিজের শ্রেণিকক্ষ ভেবে সবাইকে ছাত্রের মতো শাসন করার চেষ্টা করছেন। তিনি এই ধরনের আচরণকে সংসদীয় ফ্যাসিবাদের রূপ আখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশ করার দাবি জানান। বিপরীতে স্পিকার স্মরণ করিয়ে দেন, বক্তব্যে কোনো অসংসদীয় শব্দ থাকলে তা পরীক্ষা করে এক্সপাঞ্জ করা হবে, কিন্তু কথা বলতে না দিয়ে সমস্বরে চেঁচামেচি করা কোনো সুস্থ সংসদীয় রীতি হতে পারে না। নিজের ৪০ বছরের সংসদীয় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্পিকার উভয় পক্ষকে পরমতসহিষ্ণু হওয়ার আহ্বান জানান।
সংসদের প্রশ্নোত্তরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশ বিভাগের অনিয়ম প্রতিরোধ নিয়ে বিস্তৃত ব্যাখ্যা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালে দেশে খুন, ধর্ষণ, নারী-শিশু নির্যাতন, মব সহিংসতা এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীনের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, উপকূলীয় অঞ্চলে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ পরিচালনার মাধ্যমে প্রচুর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও জলদস্যুদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাধ পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি দেখান, ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে যেখানে ২,৬০৭টি খুনের ঘটনা ঘটেছিল, ২০২৬ সালের একই সময়ে তা কমে দাঁড়ায় ২,৩৩২টিতে। নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনাও দৃশ্যমানভাবে কমেছে এবং মব সহিংসতার ঘটনা ৮৯টি থেকে কমে ৫৬টিতে নেমে এসেছে। অন্যদিকে সংখ্যালঘু সংক্রান্ত সহিংসতার ঘটনা গত বছরের ৯৯৯টি থেকে চলতি বছরে ১৬৩টিতে নেমে এসেছে বলে মন্ত্রী নিশ্চিত করেন।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশ বিভাগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর করা হয়েছে। অপকর্মের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের কেবল চাকরিচ্যুত নয়, সরাসরি ফৌজদারি অপরাধে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। সেবায় স্বচ্ছতা আনতে ট্রাফিক জরিমানা, জিডি ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ডিজিটাল করা হয়েছে এবং বডি ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। গোপন অভিযোগ দায়েরের জন্য কমপ্লেইন সেল গঠন এবং হেফাজতে নির্যাতন রোধে ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধনের উদ্যোগের কথা জানান মন্ত্রী।
সংসদে দ্বিতীয় দফায় সরগরম আলোচনা তৈরি হয় বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি এবং আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সংসদকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, বিগত ১৫ বছরের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবর রচনা করে বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক দরবারে নিজস্ব মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা কর্তৃক ‘মক্কা প্যাক্ট’ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যকার এই চুক্তিটি আন্তর্জাতিক মুসলিম সমাজের সুরক্ষার জন্য ইতিবাচক একটি ব্যবস্থা। সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এলে সরকার তা ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করবে এবং এটি মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয় হওয়ায় এতে বাইরের দেশগুলোর উদ্বিগ্ন হওয়ার অবকাশ নেই।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের দায়িত্ব অর্জন প্রসঙ্গে ঢাকার সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে সভাপতির পদটি সমগ্র দেশের জন্য অভূতপূর্ব গৌরব বয়ে আনলেও এটি কোনো একক দেশের স্বার্থে ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট সুযোগ নেই। সভাপতিকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে কাজ করতে হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বের কারণে ১০ সপ্তাহের নিবিড় প্রচারণায় এই সফলতা এসেছে বলে উল্লেখ করার পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক অনুদান আদায়ে মন্ত্রণালয়ে ‘জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও আন্তঃসীমান্ত পানি সম্পদ’ নামে নতুন বিশেষ অনুবিভাগ খোলার কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মিশনগুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়নে নতুন ‘কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর’ (কেপিআই) পদ্ধতি প্রবর্তনের কথা ঘোষণা করেন তিনি।
অধিবেশনে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক একনেক ও এডিপির উন্নয়ন প্রকল্পের গতিধারা এবং আঞ্চলিক নদীগুলোর পানি বণ্টন নিয়েও আলোচনা হয়। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা জুনায়েদ সাকি সংসদে জানান, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে ১,৩৩৩টি চলমান প্রকল্পের পাশাপাশি সংশোধনে ১,১৬৫টি এবং প্রাথমিক তালিকায় ১,২৭০টিসহ মোট ২,৪০০টির বেশি প্রকল্প পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অতীতে বিচ্ছিন্নভাবে নেওয়া একাধিক প্রকল্পের কারণে দীর্ঘসূত্রতা ও অতি-ব্যয় তৈরি হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব এড়াতে এবং তিন জেলা বা বিভাগভিত্তিক সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের নতুন নীতি নীতি বাস্তবায়নের কাজ চলছে যাতে হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়ার মতো উপজেলার বৈষম্য দূর হয়।
মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৫ ও অন্যান্য মেগা প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি সম্পর্কে তিনি দুর্নীতির অভিযোগ নাকচ করে জানান, আন্তর্জাতিক ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মান পরিবর্তনের ফলেই এই ব্যয় বেড়েছে, যা কঠোর স্ক্রুটিনির (খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ) মাধ্যমে অনুমোদন দেওয়া হবে।
পানি বণ্টন নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নিশ্চিত করেন, গঙ্গা চুক্তির নবায়নে ভারতের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়ে উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ টিম জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে কারিগরি মূল্যায়নের (টেকনিক্যাল ইভালুয়েশন) কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়েছে।
দেশের চলমান বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট, নিত্যপণ্যের অনিয়ন্ত্রিত দরদাম এবং বেকারত্ব নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র ক্ষোভ ও কটাক্ষ প্রকাশ করেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নাম ইঙ্গিত করে তিনি মন্তব্য করেন, জ্বালানির সংকটে পড়ে সাধারণ মানুষ রসিকতা করে বলছে বিদ্যুতের পরিস্থিতি এখন ‘টুকু আসে টুকু যায়’। একদিকে তেলের দাম বৃদ্ধি অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের হাহাকারে জনজীবন বিপর্যস্ত।
বাজারের অগ্নিমূল্যের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বাজারে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি মিলছে না এবং টিসিবির ট্রাকের পেছনে দীর্ঘ লাইন মানুষের সীমাহীন কষ্টের সাক্ষ্য দিচ্ছে। সরকার এক কোটি কর্মসংস্থানের কথা বললেও ইতোমধ্যে ৬২ হাজার মানুষ চাকরি হারিয়েছেন এবং ৯০০ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার দিকে আঙুল তুলে তিনি বিদ্রুপের সুরে বলেন, দেশে ৬৪টি জেলায় ৬৪ জন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলেও হয়তো পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসত। জনভোগান্তি ও বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারের উদাসীনতাকে আড়াল করতেই মন্ত্রীরা সংসদের ভেতরে বাকচাতুরি করছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে, দেশজুড়ে তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট, অনিয়ন্ত্রিত দ্রব্যমূল্য এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতিতে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠার কঠোর সমালোচনা করে জাতীয় সংসদ থেকে একযোগে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। একইসঙ্গে সংকট নিরসনে বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের আবেদন উপেক্ষা করা, গণভোটের মাধ্যমে পাওয়া মূল সংস্কার অর্ডিন্যান্স ল্যাপস হতে দেওয়া এবং ‘বেসরকারি দিবসে’ সরকারি বিল উত্থাপনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান।
জাতীয় জীবনের সমসাময়িক নানা সংকট তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জ্বালানি সংকট ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে দেশে বর্তমানে শত শত কল-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে কেবল শিল্প মালিকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, বরং কোটি কোটি সাধারণ শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়ে অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছেন। একইসঙ্গে পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ছে। অনভিপ্রেত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পাশাপাশি অতিরিক্ত ‘ভুতুড়ে বিল’ পরিশোধ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশে বিদ্যমান তীব্র জনদুর্ভোগ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি নিয়ে আলোচনা করতে এর আগে রাষ্ট্রপতি ও স্পিকারের কাছে জরুরি অধিবেশন আহ্বানের আহ্বান জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্রের তরফ থেকে সেই জরুরি চিঠির কোনো ইতিবাচক প্রতিসংক্রান্ত জবাব মিলেনি। অধিবেশনে ২৪-এর রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা নতুন সংসদের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছিল। তবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান না করে মূল গণরায়কে অন্যায্যভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।
সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন ও নির্বাচন সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অন্তত ২০টি জরুরি অর্ডিন্যান্স ল্যাপস বা নিষ্ক্রিয় হতে দেওয়া হয়েছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ আইনি অবকাঠামো ল্যাপস হওয়ার কারণে সমাজে আবারও পুরোনো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা মাথাচাড়া দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সংসদের গণতান্ত্রিক কার্যপ্রণালী বিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদীয় কনভেনশন অনুযায়ী বৃহস্পতিবারের অধিবেশনটি ছিল ‘বেসরকারি সদস্য দিবস’ (প্রাইভেট মেম্বারস ডে)। এ ধরনের দিবসে সাধারণ সংসদ সদস্যদের আনা নোটিশ ও বেসরকারি বিল গুরুত্ব পাওয়ার কথা থাকলেও পেন্ডিং নোটিশগুলো পাশ কাটিয়ে সরকারি বিল উপস্থাপনের অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
বিরোধীদলের পক্ষ থেকে আনা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট চারটি গুরুত্বপূর্ণ নোটিশের কোনো আলোচনা না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বিরোধী দল স্পষ্ট জানায়, সংস্কারের মূল দাবিকে চাপা দেওয়ার কোনো একপেশে সংসদীয় প্রক্রিয়ার অংশ তারা হতে চান না। সংসদের সরকারি ও বিরোধী উভয়পক্ষকে কার্যকর বিতর্কের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার কক্ষ থেকে বের না হওয়ার অনুরোধ জানালেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়। পরবর্তী সময়ে বিরোধী দলীয় সদস্যরা পুনরায় অধিবেশন বর্জন করে কক্ষ ত্যাগ করেন।
এদিকে বিরোধী দলকে সংসদীয় ধারা ও চর্চায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তুচ্ছ বাহানায় কথায় কথায় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করলে আখেরে গণতন্ত্রেরই ক্ষতি হবে। এই সংসদকে কার্যকর করতে না পারলে গণতন্ত্র বার বার হোঁচট খাবে এবং সেটির জন্য ইতিহাস বিরোধী দলকেই দায়ী করবে। সরকারের প্রধান লক্ষ্য আইন প্রণয়নসহ দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সংকটের সমাধান এই জাতীয় সংসদেই করা। রাজপথে বা গুলশানে অনেক কথা বলা সম্ভব হলেও সংসদের ভেতর কথা বলতে হবে নির্দিষ্ট বিধি মেনে এবং তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে।
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য ও ওয়াকআউট করার জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আইন প্রণয়ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা না করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই ওয়াকআউট করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রথম অধিবেশন থেকেই বিরোধী দল মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইনের দাবি জানিয়ে আসছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তাড়াহুড়ো করে তৈরি করা মানবাধিকার কমিশন আইনে যেসব ভুলত্রুটি ছিল, তা সংশোধনের জন্য আইন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সবাই কঠোর পরিশ্রম করেছেন। দেশি-বিদেশি স্টেকহোল্ডার, ডিপ্লোম্যাটিক মিশন, মানবাধিকার সংস্থা এবং ইউএনডিপির সঙ্গে একাধিক সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম করে একটি আন্তর্জাতিক মানের এবং দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিল প্রস্তুত করা হয়েছে।
সংসদে উত্থাপিত দুটি বিল নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল—উভয়টিই একটি সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী রূপ দিয়ে আজ সংসদে উত্থাপন ও কমিটিতে পাঠানোর কথা ছিল। বিলের কপি যথেষ্ট আগেই সব সদস্যকে সরবরাহ করা হয়েছে এবং সংসদীয় কমিটিতে আলোচনার জন্য আরও কয়েক দিন সময় পাওয়া যেত। কিন্তু এই বিল উত্থাপনকে বাহানা বানিয়ে বিরোধী দল সংসদ ত্যাগ করেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার সংসদ আহ্বান করার এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার এমন কোনো এখতিয়ার নেই। রাষ্ট্রপতিকে যে চিঠি দেওয়ার এখতিয়ার তার নেই, সেই চিঠির জবাব কীভাবে রাষ্ট্রপতি দেবেন। তাছাড়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণসহ নানা প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার মধ্যেই তড়িঘড়ি করে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংসদ আহ্বানের বিষয়ে সরকারের সদিচ্ছাকে প্রশংসা না করে অহেতুক সমালোচনা করা হচ্ছে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা ও সংসদ সদস্যদের ওপর কথিত হামলার বিষয়ে বিরোধী দলের ঢালাও অভিযোগের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে সরকার অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা বা স্থান উল্লেখ না করে গণমাধ্যমে বা জনসভায় কথা বলা আর সংসদে কথা বলা এক নয়। কোনো সংসদ সদস্যের ওপর কোথায় হামলা হয়েছে বা কাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া সম্ভব।
গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে অবহিত করে বলেন, সরকার ১৬-১৭ বছরের অপরিকল্পিত ও একক গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার যে রেখে যাওয়া সংকট, তা প্রতিনিয়ত সংশোধন করার চেষ্টা করছে। মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেল-গ্যাসের দাম দ্বিগুণ হলেও বাংলাদেশে তা সহনীয় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে ইতোমধ্যে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করা, এফএসআরইউ নির্মাণ এবং এলএনজি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে দেশের সার কারখানা ও শিল্প উৎপাদন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয় এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকে।
সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ের ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ এর সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ওই আদেশের কোনো রাজনৈতিক ভিত্তি বা রাজনৈতিক সমঝোতা ছিল না। এটি অনেকটা মার্শাল ল অর্ডারের মতো জারি করা হয়েছিল। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের দাবি সরকারেরই ছিল, যেন জনগণের প্রত্যক্ষ জনরায়ে এটি সর্ব সার্বভৌম আইনিভিত্তি পায়। কিন্তু একটি দূরভিসন্ধিমূলক আদেশের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।
সংবিধান সংস্কারের নামে কয়েকজনের অবৈধ শপথ গ্রহণের দিকে ইঙ্গিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কথা বলা হচ্ছে, বর্তমান সংবিধানে তার কোনো অস্তিত্ব বা বিধান নেই। অথচ এই সংবিধান মেনে ও এর অধীনেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে সবাই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এই সংবিধান অনুসারেই সর্বসম্মতিক্রমে ও মহা উৎসবে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং তিনি শপথ নিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির নির্বাচন ও সংসদ যদি বৈধ হয়, তবে বিশেষ কোনো পরিষদের কথা বলে সংবিধানকে অস্বীকার করা দ্বিমুখী নীতি।
সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি নিয়ে বিরোধী দলের সংশয়ের জবাবে মন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলেন, কার্যপ্রণালী বিধির ২৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সুনির্দিষ্ট টার্মস অব রেফারেন্স বা কার্যপরিধিই হচ্ছে সংবিধান সংশোধন করা। তিনি বিরোধী দলকে কোনো বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে এই কমিটিতে এসে নিজস্ব প্রস্তাব ও মতামত তুলে ধরার আহ্বান জানান।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষের সংসদ সদস্যদের প্রতি জাতীয় সংসদকে প্রাণবন্ত ও কার্যকর রাখার আকুল আবেদন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার বিপ্লব ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সবাই সংসদকে আলোচনার মূল কেন্দ্রে পরিণত করবেন এবং দেশ পরিচালনায় গণতান্ত্রিক ধারাকে সংহত রাখবেন।
একই অধিবেশনে গুমকে স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে এর সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ তোলা হয়েছে। একই দিনে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন রহিত করে নতুন আইন করতে আরেকটি বিল আনা হয়েছে। এ ছাড়া সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের জন্যও আরেকটি বিল আনা হয়েছে।